মলাট

স্কুল, কলেজের সিলেবাসের গণ্ডির বাইরে গণিতের একটা জগৎ আছে। এই জগৎটায়, ফরমুলায় ফেলে দিলেই অঙ্ক ‘হয়ে’ যায় না। আর ঠিক সেই কারণেই, গাদা গাদা অঙ্ক মুখস্ত করে, ফরমুলা মনে রেখে, এখানে পাত্তা পাবার উপায় নেই। ‘চিন্তা গণিত কেন্দ্র’ এই ধরণের গণিতের ছাত্রছাত্রীদের সাথে ২০১০ সাল থেকে কাজ করে চলেছে।

গণিত অলিম্পিয়াড দুনিয়ার সবচে বড় গণিত উৎসব। সবথেকে কঠিনও বটে। প্রায় একশোটা দেশ থেকে ছাত্র ছাত্রীরা প্রতি বছর জুলাই মাসে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। মোট ছটা অঙ্ক থাকে। বিষয়বস্তু মুলত জ্যামিতি, নাম্বার থিয়োরি, কম্বিনেটরিক্স এবং বীজগণিত। দুদিন ধরে প্রতিযোগিতাটি চলে। প্রত্যেকদিন তিনটে করে অঙ্ক করতে হবে। সাড়ে চার ঘণ্টা সময়ে।

‘আন্তর্জাতিক গণিত উৎসব’এ প্রতিযোগী পাঠানোর জন্যে প্রতিটি দেশ নিজের মত করে একটা গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করে। সেখানে যারা সফল হয়, তারাই চূড়ান্ত পর্যায়ে অংশ নিতে যায়। সাধারণত গণিত অলিম্পিয়াডে তারাই অংশ নেয়, যাদের গণিত সম্পর্কে বিশেষ ভালবাসা আছে। সফল প্রতিযোগীরা দেশ বিদেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে পড়ার সুযোগ পায়।

‘চিন্তা গণিত কেন্দ্র’ এখন অবধি পাঁচটি দেশের (ভারত, মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র, স্কটল্যাণ্ড, সৌদী আরব, সিঙ্গাপুর) ছেলেমেয়েদের সাথে অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াডের প্রশিক্ষণ শিবির করেছে। 

ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুট, চেন্নাই ম্যাথেম্যাটিকাল ইন্সটিট্যুট এবং ইন্সটিট্যুট অফ ম্যাথেম্যাটিক্স এন্ড এপ্লিকেশন্স এর মত কলেজ, যেখানে, গণিতের জন্য বিশেষ ধরণের পাঠক্রম আছে, তাদের প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্যও আমরা ২০১০ সাল থেকে কাজ করছি। ২০১৩ সাল থেকে, কলেজ পর্যায়ে যারা গণিত ভালোবাসে, তাদের সাথে আমরা কাজ করতে শুরু করেছি।

‘চিন্তা গণিত কেন্দ্র’-এর পাঠক্রম গুলি একটু বিশেষ ধরণের। যাদের অঙ্কের প্রতি প্রণয় সাধারণের থেকে বেশি, একমাত্র তারাই আমাদের সাথে কাজ করে আনন্দ পাবে। আমরা সরাসরী কাউকে প্রবেশাধিকার দিই না। ‘চিন্তা প্রবেশিকা’-য় যারা উত্তীর্ণ হয়, একমাত্র তারাই পাঠক্রম গুলিতে ভর্তী হতে পারবে।